ইরান-আরব আমিরাত উত্তেজনা: হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের মেঘ, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা ট্রাম্পের
দুবাই/ ওয়াশিংটন ৫ মে, ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আকাশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার পাল্টাপাল্টি দাবির প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলে একটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আকাশসীমায় হামলা ও আমিরাতের প্রতিরক্ষা
গত সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা দেশটির আকাশসীমায় ধেয়ে আসা অন্তত ১৫টি হুমকি সফলভাবে ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে উন্নত প্রযুক্তির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন ছিল।
যদিও মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে, তবে হামলার সময় ফুজাইরাহ তেল স্থাপনায় একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ বর্তমানে আগুনের প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের ভূমিকা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। তেহরান এখন পর্যন্ত এই অভিযানের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
হরমুজ প্রণালীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেলের রুট হরমুজ প্রণালীতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, একটি মার্কিন নৌযান তাদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবি নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে, ওই এলাকায় কোনো মার্কিন জাহাজ আক্রান্ত হয়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ (Project Freedom) নামক একটি বিশেষ নৌ-মিশনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই মিশনের অধীনে মার্কিন নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে।
হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় ট্রাম্প বলেন, "মার্কিন বাহিনীর ওপর যেকোনো সুনির্দিষ্ট হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তবে আমরা এখনো কূটনৈতিক পথ খোলা রেখেছি এবং বর্তমান যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি বলে মনে করি।"
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া ও জ্বালানি উদ্বেগ
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লেয়েন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছেন। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (GCC) এক জরুরি সভায় বিশ্বশক্তিগুলোকে এই উত্তেজনা প্রশমনে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে, তুরস্কের জ্বালানি মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে যে, এই সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, যা তেলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সতর্কতা
গাজা এবং লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এমনিতেই অস্থিতিশীল। এর মধ্যে ইউএই-ইরান সংঘাত নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সতর্কতা হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার দেশজুড়ে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস বন্ধ করে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালুর নির্দেশ দিয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যদিও কোনো পক্ষই এখনো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করেনি, তবে ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি থেকেও একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের সূত্রপাত হতে পারে।
