দৈনিক সাহসী রিপোর্টস
লোড হচ্ছে...

হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে বেইজিংয়ে ইরানকে চীনের জোরালো তাগিদ

 


বেইজিং – বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী 'যত দ্রুত সম্ভব' পুনরায় সচল করার আহ্বান জানিয়েছে চীন। বুধবার বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে এই দাবি জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটিই আরাগচির প্রথম চীন সফর। বৈঠকে ওয়াং ই স্পষ্ট করে বলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি অর্জনই বেইজিংয়ের কাছে 'সবচেয়ে জরুরি অগ্রাধিকার'। তিনি চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যেকোনো ধরনের গঠনমূলক ভূমিকা পালনে চীনের প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট

গত কয়েক মাসের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী বর্তমানে প্রায় অচল হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবরোধের ফলে এই পথ দিয়ে সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চীনের জন্য এই পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই রুট ব্যবহার করেই আমদানি করা হয়।

ওয়াং ই বলেন, "হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ ও স্বাভাবিক নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন এবং চীন আশা করে যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দ্রুত ইতিবাচক সাড়া দেবে।"

কূটনৈতিক সমীকরণ ও ট্রাম্প-শি বৈঠক

চীন শুরু থেকেই এই সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করছে। বৈঠকে ওয়াং ই ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌ-অবরোধকে 'দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিপজ্জনক' বলে উল্লেখ করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন।

এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যার ঠিক এক সপ্তাহ পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বৈঠকে ইরান যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টিই হবে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।

দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি চীনের এই অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রায় এক দশক পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের চীন সফরের প্রাক্কালে এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

ভিডিও গ্যালারি