বকেয়া চাইল্ড সাপোর্ট: কয়েক হাজার মার্কিন পাসপোর্ট বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু
ওয়াশিংটন — পারিবারিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর। সন্তানদের ভরণপোষণের অর্থ (চাইল্ড সাপোর্ট) সময়মতো পরিশোধ না করায় হাজার হাজার আমেরিকানের পাসপোর্ট বাতিল করার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।
সরাসরি পাসপোর্ট বাতিলের ঘোষণা
গত বৃহস্পতিবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (AP) জানিয়েছে, শুক্রবার থেকেই এই কঠোর ব্যবস্থা কার্যকর হতে যাচ্ছে। প্রাথমিক তালিকায় স্থান পেয়েছেন তারা, যাদের বকেয়া চাইল্ড সাপোর্টের পরিমাণ ১ লক্ষ ডলার বা তার বেশি। সরকারি তথ্যমতে, এ পর্যায়ে প্রায় ২,৭০০ জন নাগরিকের পাসপোর্ট বাতিল করা হচ্ছে।
কড়াকড়ির আওতা বাড়ছে
বর্তমান অভিযান বড় অংকের বকেয়া নিয়ে শুরু হলেও, খুব শীঘ্রই এর আওতা আরও বাড়ানো হবে। ১৯৯৬ সালের একটি ফেডারেল আইন অনুযায়ী, বকেয়া অর্থের পরিমাণ মাত্র ২,৫০০ ডলার অতিক্রম করলেই যেকোনো অভিভাবকের পাসপোর্ট সুবিধার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সম্ভব।
আগে নিয়ম ছিল যে, কারো বকেয়া থাকলে তিনি কেবল নতুন পাসপোর্ট বা নবায়নের আবেদন করতে পারতেন না। কিন্তু এখন থেকে চলমান বৈধ পাসপোর্টও সরাসরি বাতিল বা 'রিভোক' (Revoke) করা হবে। হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস (HHS) বিভাগ বর্তমানে রাজ্যগুলোর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে, যার ফলে ভুক্তভোগীর সংখ্যা কয়েক হাজারে গিয়ে ঠেকতে পারে।
বিদেশে থাকা নাগরিকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
বিদেশে অবস্থানকালে কারো পাসপোর্ট বাতিল হলে তিনি বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়বেন। সেই ক্ষেত্রে তিনি কোনো সাধারণ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে চড়তে পারবেন না। তাকে নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস থেকে একটি সীমিত মেয়াদের জরুরি ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করতে হবে, যা দিয়ে তিনি কেবল যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার অনুমতি পাবেন।
কেন এই কঠোর ব্যবস্থা?
কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্সের সহকারী সচিব মোরা নামদার জানান, এটি একটি কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন পদক্ষেপ যা অভিভাবকদের দায়বদ্ধতা মনে করিয়ে দেবে। পরিসংখ্যান বলছে, এই ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করার পর থেকেই অনেক অভিভাবক তাদের বকেয়া অর্থ দ্রুত পরিশোধ করতে শুরু করেছেন। ১৯৯৮ সাল থেকে এই পদ্ধতির মাধ্যমে শিশুদের অধিকার রক্ষায় প্রায় ৬৬ কোটি ডলারের কাছাকাছি অর্থ আদায় করা হয়েছে।
