দৈনিক সাহসী রিপোর্টস
লোড হচ্ছে...

ইরাকে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতির প্রমাণ: নাজাফ মরুভূমিতে ‘গোপন আস্তানা’ নিয়ে তোলপাড়

 বাগদাদ — ১০ মে, ২০২৬: ইরাকের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে দেশটির নাজাফ মরুভূমিতে ইসরায়েলি বাহিনীর একটি অত্যন্ত গোপন সামরিক আস্তানা পরিচালনার খবর ফাঁস হয়েছে।

দীর্ঘ গোপনীয়তার পর ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, গত কয়েক মাস ধরে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলার প্রধান সমন্বয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল এই ভূগর্ভস্থ বা ছদ্মবেশী ঘাঁটিটি।

সাদ্দাম আমলের বিমানঘাঁটিতে নতুন তৎপরতা

নিরাপত্তা গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাদ্দাম হোসেনের আমলে নির্মিত দক্ষিণ-পশ্চিম ইরাকের একটি পরিত্যক্ত ও দুর্গম বিমানঘাঁটিকে কেন্দ্র করে এই অপারেশনটি সাজানো হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী এবং কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সেখানে অবস্থান নেন। মরুভূমির এই জনহীন এলাকাটি এমনভাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল যাতে ইরানি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের নজরদারি এড়ানো সম্ভব হয়।

যেভাবে সামনে এল গোপন ঘাঁটি

একটি সাধারণ মেষপালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই রহস্যের জট খুলতে শুরু করে। গত ৫ মার্চ ওই এলাকায় সন্দেহজনক হেলিকপ্টার চলাচল দেখে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে জানান। তদন্ত করতে যাওয়া ইরাকি সেনাদের ওপর হঠাৎ করেই আকাশপথে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে একজন ইরাকি সেনার মৃত্যু হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। পরবর্তীতে ইরাকি সেনাবাহিনী এলাকাটি দখল করলে দেখা যায় সেখানে কোনো সেনা সদস্য নেই, কিন্তু ফেলে যাওয়া হয়েছে উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিক জ্যামিং রাডার এবং যোগাযোগ সরঞ্জাম।


এই ঘাঁটির লক্ষ্য ও গুরুত্ব

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, নাজাফের এই আস্তানাটি মূলত দুটি কারণে ব্যবহার করা হচ্ছিল:

  • আকাশপথের হাব: ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো যখন ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানত, তখন দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সুবিধার্থে এটি একটি মধ্যবর্তী স্টেশন হিসেবে কাজ করত।

  • তাত্ক্ষণিক উদ্ধার: কোনো যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলে বা পাইলট নিখোঁজ হলে তাদের দ্রুততম সময়ে উদ্ধার করতে একটি স্পেশাল রেসকিউ টিম সেখানে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

তীব্র কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সার্বভৌমত্ব প্রশ্ন

ইরাকের ডেপুটি কমান্ডার কায়েস আল-মোহামাদাউই এই ঘটনাকে ইরাকের সার্বভৌমত্বের ওপর এক বড় আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি সাফ জানিয়েছেন, ইরাকি সরকার কোনো অবস্থাতেই তাদের মাটি ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো দেশের ওপর হামলার অনুমতি দেয়নি। অভিযোগ উঠেছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ ছায়াতলে এই ঘাঁটিটি পরিচালিত হচ্ছিল।

ইসরায়েল যথারীতি এই অভিযানের ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি দেয়নি। তবে ইরাকের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি সেনার এই সরব উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে এক নতুন এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মোড়ে নিয়ে দাঁড় করাল।

ভিডিও গ্যালারি