দৈনিক সাহসী রিপোর্টস
লোড হচ্ছে...

মূল্যস্ফীতির নতুন রেকর্ড: মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস, জীবনযাত্রার ব্যয়ে বড় ধাক্কা

 



ঢাকা – দেশের সাধারণ মানুষের ওপর দ্রব্যমূল্যের চাপ আরও এক দফা বাড়ল। এপ্রিল মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি আবারও ৯ শতাংশের ঘর ছাড়িয়ে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে পৌঁছেছে।


গত মাসে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। সরকারি তথ্যমতে, গত ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে, যা দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) আজ বুধবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি এখন সবচেয়ে বেশি। এই খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশে। অন্যদিকে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

জ্বালানির দাম ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ১৯ এপ্রিল সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলেই বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহন ও পণ্য উৎপাদন খাতে। এর ফলে গত দুই সপ্তাহে বাজারে প্রায় সব ধরনের শাকসবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাছ ও মাংসের দামও এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

মজুরির তুলনায় ব্যয়ের পাল্লা ভারি

বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, এপ্রিল মাসে জাতীয় গড় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। এর মানে হলো, মানুষের আয় যে হারে বাড়ছে, তার চেয়ে ব্যয় বাড়ছে অনেক বেশি দ্রুতগতিতে। যখন মূল্যস্ফীতির হার আয়ের চেয়ে বেশি হয়, তখন মানুষের 'প্রকৃত আয়' কমে যায়। ফলে অনেক পরিবারকে এখন সঞ্চয় ভেঙে অথবা ধারদেনা করে নিত্যদিনের খরচ মেটাতে হচ্ছে। অনেকে আবার খাদ্য তালিকায় কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন।

চালের দাম বর্তমানে কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও অন্যান্য নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আরও বেশ কিছুদিন বাজারে বজায় থাকবে, যা সামনের দিনগুলোতে মধ্যবিত্তের সংকট আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

ভিডিও গ্যালারি