বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি বৈঠক: ইরান যুদ্ধ ও বাণিজ্য সংকট নিরসনে নজর বিশ্ববাসীর
বুধবার সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে পা রাখার পর থেকেই ট্রাম্পকে ঘিরে চলছে বিশেষ রাষ্ট্রীয় আড়ম্বর। এবারের এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো স্থবির হয়ে পড়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পুনরুদ্ধার এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান সংকট নিরসন করা।
আলোচনার প্রধান এজেন্ডা ও চ্যালেঞ্জসমূহ
দুই দেশের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অত্যন্ত জটিল কিছু বিষয় স্থান পাচ্ছে:
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ: ইরান থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চীন ও বিশ্ব অর্থনীতি চাপে পড়েছে। এই যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প চীনের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের আহ্বান জানাবেন।
প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর: ইলন মাস্ক এবং টিম কুকের মতো প্রযুক্তিবিদদের উপস্থিতিতে উচ্চমানের 'এআই চিপ' ব্যবহারের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি নিয়ে দর কষাকষি করবে বেইজিং।
বাণিজ্য ঘাটতি: গত কয়েক বছরে দুই দেশের বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ট্রাম্পের লক্ষ্য হলো মার্কিন কৃষি পণ্য ও উড়োজাহাজ বিক্রির মাধ্যমে এই ব্যবধান কমিয়ে আনা।
তাইওয়ান ইস্যু: তাইওয়ানে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির প্রেক্ষাপটে চীনের নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
একটি 'শক্তিশালী' চীন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
২০১৭ সালের সফরের তুলনায় এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা এখন চীনকে এক 'সমকক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী' হিসেবে দেখছে। চীনের অর্থনৈতিক শক্তির প্রতীক হিসেবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চংকিং (Chongqing) শহরকে তুলে ধরা হচ্ছে, যেখানে রোবটিক্স এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির বিপ্লব ঘটেছে। তবে এই উন্নতির পাশাপাশি চীনের আবাসন খাতের সংকট এবং বিপুল ঋণের বিষয়টিও ট্রাম্প প্রশাসনের আলোচনার অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে।
শুক্রবার জংনানহাই গার্ডেনে একটি কার্যনির্বাহী মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক সফরের সমাপ্তি ঘটবে। এই বৈঠকের ফলাফল কেবল দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নয়, বরং গোটা বিশ্বের স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
