দৈনিক সাহসী রিপোর্টস
লোড হচ্ছে...

ট্রাম্প-শি বৈঠক: ইরানের পরমাণু বোমা কি ঠেকানো সম্ভব? কোন পথে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক অর্থনীতি?

নিজস্ব প্রতিবেদক, বেইজিং — মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বেইজিং সফর শেষ করে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

 চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে কয়েক দফা রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখতে এবং বৈশ্বিক তেলের বাজার সচল রাখতে ওয়াশিংটন ও বেইজিং এখন একই অবস্থানে রয়েছে。

এই ঐতিহাসিক সফরের মূল বিষয়গুলো একনজরে:

১. পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে ‘কমন গ্রাউন্ড’ হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প ও শি জিনপিং উভয়েই একমত হয়েছেন যে ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক শক্তিধর হতে দেওয়া যাবে না。 উল্লেখ্য যে, তেহরান বর্তমানে ৯% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৈরির অত্যন্ত কাছাকাছি রয়েছে, যা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য হুমকি。 ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তির আগে ইরানকে তার সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ধ্বংস করতে হবে。

২. হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও তেলের বাজার বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে সমঝোতা হয়েছে。 চীনের প্রেসিডেন্ট একমত হয়েছেন যে, এই জলপথটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি প্রবাহের জন্য নিরাপদ রাখা জরুরি。 এই আলোচনার প্রেক্ষাপটেই চীন এখন থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আলাস্কা থেকে বিপুল পরিমাণ মার্কিন অপরিশোধিত তেল আমদানির বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে。

৩. ট্রাম্পের ‘মেগা’ বাণিজ্য চুক্তি সফর শেষে ট্রাম্প একে মার্কিন অর্থনীতির জন্য একটি বিরাট জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে চীনের ২০০টি জেট বিমান কেনার বড় চুক্তি。 এছাড়া মার্কিন কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কয়েক বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বেইজিং。

৪. তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সতর্কবার্তা বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাঝেও তাইওয়ান ইস্যুতে ফাটল স্পষ্ট দেখা গেছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সরাসরি জানিয়েছেন, তাইওয়ান ইস্যুতে যেকোনো ভুল পদক্ষেপ এই অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত ডেকে আনতে পারে。 তিনি তাইওয়ানের স্বাধীনতা এবং শান্তিকে "আগুন ও পানির মতো" বিপরীতমুখী বলে অভিহিত করেছেন。 অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের জন্য ১১.১ বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্র সহায়তা ঘোষণা করেছে。

৫. যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি শীর্ষ নেতাদের এই আলোচনার মধ্যেই গাজা ও লেবাননে সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। উত্তর গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৪ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং দক্ষিণ লেবাননে আরও একজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন。 পশ্চিম তীরেও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে。

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই চীন সফর বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে বেইজিং এখন ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি কৌশলী অবস্থানে রয়েছে。

ভিডিও গ্যালারি