দৈনিক সাহসী রিপোর্টস
লোড হচ্ছে...

নবান্নে শুভেন্দু সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা: প্রশাসনিক সংস্কার ও আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে নতুন দিশা

কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত — ১১ মে, ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ নবান্নে তাঁর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের রদবদলের ডাক দিয়েছেন।

আজকের এই বৈঠকটি কেবল পোর্টফোলিও বণ্টনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট একাধিক মৌলিক বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ক্যাবিনেট বৈঠকের সারসংক্ষেপ

মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর ৫ জন পূর্ণমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আজকের বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়:

  • স্বাস্থ্য খাতে বড় পদক্ষেপ: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মন্ত্রিসভা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ পশ্চিমবঙ্গে সরাসরি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অনুমোদনের ফলে রাজ্যের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা লাভ করবে।

  • তদন্ত কমিশন গঠন: তৃণমূল জমানায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নারীদের ওপর হওয়া নির্যাতনের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘তদন্ত কমিশন’ গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • সীমান্তের নিরাপত্তা: অনুপ্রবেশ ও পাচার রোধে বাংলাদেশ সীমান্তের অসম্পূর্ণ কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।


প্রশাসনিক তৎপরতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী আজ বিকেলে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে বসেন।

  • বিকাল ৪টে: সমস্ত জেলাশাসকদের (DM) সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করে গ্রামীণ পর্যায়ে সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

  • বিকাল ৫টা: রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং বিভিন্ন জোন-এর উচ্চপদস্থ কর্তাদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। নির্বাচনের পরবর্তী হিংসা দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে তিনি এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং বাংলাদেশের সরকারের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে দিল্লি। যদিও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে শুভেন্দু সরকার ও অসমের সরকার কড়া অবস্থান নিয়েছে, তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ঢাকার সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

ভিডিও গ্যালারি