ব্রিটিশ রাজনীতিতে অস্থিরতা: পদত্যাগ করবেন না স্টারমার, লেবার পার্টির হাল ধরতে ফিরলেন গর্ডন ব্রাউন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | লন্ডন | ৯ মে, ২০২৬
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে লেবার পার্টির নজিরবিহীন বিপর্যয়ের পর পদত্যাগের চাপে থাকা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক নাটকীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। দলের অভ্যন্তরে সমালোচনার ঝড় এবং নেতৃত্বের পরিবর্তনের দাবির মুখেও তিনি ক্ষমতা না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পরিবর্তে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দলের দুই প্রবীণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব—সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন এবং হ্যারিয়েট হারম্যানকে বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি।
অভিজ্ঞতার ওপর স্টারমারের বাজি
নির্বাচনি ফলাফলে বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার পর স্টারমার তার মন্ত্রিসভা এবং নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছেন। তিনি গর্ডন ব্রাউনকে 'গ্লোবাল ফিন্যান্স' বা বৈশ্বিক অর্থায়ন বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে মনোনীত করেছেন। মূলত বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা এবং প্রতিরক্ষা খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্রাউনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চান তিনি। পাশাপাশি, অভিজ্ঞ নেত্রী হ্যারিয়েট হারম্যানকে নারী ও শিশুদের অধিকার এবং রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়েছে।
'আমরা ভুল করেছি': স্টারমারের অকপট স্বীকারোক্তি
গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে কিয়ার স্টারমার সরাসরি স্বীকার করেন যে, তার সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের কিছু অপ্রয়োজনীয় ভুল ছিল এবং আমরা ভোটারদের মনে ভবিষ্যতের জন্য যে আশার সঞ্চার করা প্রয়োজন ছিল, তা করতে পারিনি।” তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই সংকটে পদত্যাগ করে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির কোনো ইচ্ছা তার নেই।
ফিরে আসা বনাম আধুনিকায়ন
গর্ডন ব্রাউন ও হ্যারিয়েট হারম্যানের মতো বর্ষীয়ান নেতাদের ফিরে আসাকে দলের সবাই ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন না। লেবার পার্টির একাংশের মতে, বর্তমান সময়ে ভোটাররা নতুন ও আধুনিক চিন্তাধারার নেতৃত্ব দেখতে চায়। পুরনো আমলের নেতাদের ফিরিয়ে আনা দলের জন্য 'পেছনের দিকে হাঁটা' কি না, তা নিয়ে খোদ দলের ভেতরেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মানচিত্রে লেবার পার্টির অবনমন
২০২৬ সালের এই নির্বাচনের ফলাফল লেবার পার্টির জন্য একটি বড় সতর্কসংকেত।
ওয়েলস: সেখানে ‘প্লাইড কামরি’ দলের উত্থানে লেবার পার্টি তাদের কয়েক দশকের আধিপত্য হারিয়েছে।
স্কটল্যান্ড: এসএনপি (SNP) সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
ইংল্যান্ড: সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে ‘রিফর্ম ইউকে’, যারা লেবার এবং কনজারভেটিভ—উভয় দলের ঐতিহ্যবাহী ভোট ব্যাংক ভেঙে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।
বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাররা বর্তমানে প্রচলিত ধারার রাজনীতির ওপর ত্যক্ত-বিরক্ত। কিয়ার স্টারমার নিজেকে প্রমাণের জন্য শেষবারের মতো যে সুযোগ খুঁজছেন, তা কতটা সফল হবে—তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক সপ্তাহের ওপর। একদিকে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ আর অন্যদিকে নির্বাচনের শোচনীয় ফল—এই দ্বিমুখী চাপ মোকাবিলা করাই এখন স্টারমারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
