মেলবোর্ন —অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে তিন নারী গুরুতর অপরাধের অভিযোগে আদালতে হাজির হয়েছেন। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের বিরুদ্ধে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্টতা, সন্ত্রাসবাদ এবং মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সিরিয়া থেকে কয়েকজন শিশুসহ তারা অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আটক করে।
অভিযুক্তদের মধ্যে ৫৩ বছর বয়সী কাওসার আহমদ এবং তার মেয়ে ৩১ বছর বয়সী জেইনাব আহমদ শুক্রবার মেলবোর্নের আদালতে তোলা হয়।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০১৪ সালে তারা পরিবারের সঙ্গে সিরিয়ায় যান এবং সেখানে আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একটি নারীকে জোরপূর্বক নিজেদের বাসায় আটকে রাখেন।
পুলিশের দাবি, ওই নারীকে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন ডলারে কেনা হয়েছিল। কাওসার আহমদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে জেইনাব আহমদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে দুটি অভিযোগ।
আদালত তাদের আগামী শুনানি পর্যন্ত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
একই ঘটনায় ৩২ বছর বয়সী জানাই সাফার সিডনির আদালতে হাজির হন। তিনি তার সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরেন।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাফার ২০১৫ সালে সিরিয়ায় গিয়েছিলেন তার স্বামীর সঙ্গে যোগ দিতে। তার স্বামী আগে থেকেই আইএসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তার বিরুদ্ধে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ এবং সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত তাকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
ফেরত আসা নারীরা দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার আল-রোজ বন্দিশিবিরে অবস্থান করছিলেন। আইএসের পতনের পর বহু বিদেশি নারী ও শিশুকে ওই ক্যাম্পে রাখা হয়।
অস্ট্রেলিয়া সরকার দীর্ঘ সময় ধরে তাদের প্রত্যাবর্তন নিয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের মধ্যে ছিল বলে জানা গেছে।
মেলবোর্ন বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার রাতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গ্রেপ্তার না হওয়া এক নারী শিশুদের নিয়ে বের হলে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরেন এবং গণমাধ্যমের ক্যামেরা থেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন।