ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি: আমেরিকা ও ইরানের চুক্তি ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ যুদ্ধের শঙ্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক – মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের ঘনঘটা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইরানের সাথে চলমান শান্তি আলোচনা যদি কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে দেশটিতে আবারও ভয়াবহ হামলা শুরু হবে। ট্রাম্পের দাবি, এবারের সামরিক অভিযান হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং বিধ্বংসী।
সম্প্রতি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এই চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে ট্রাম্প এখনো সন্দিহান।
সমঝোতা প্রস্তাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
হোয়াইট হাউসের প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করা এবং বিনিময়ে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টিও অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা মার্কিন প্রস্তাবটি বিবেচনা করে দেখছেন。 তবে দেশটির পার্লামেন্টের একাংশ একে মার্কিনীদের 'আকাঙ্ক্ষার তালিকা' বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, আমেরিকা যুদ্ধের মাধ্যমে যা পায়নি, তা আলোচনার টেবিলে আদায় করতে চাইছে।
হরমুজ প্রণালী ও বিশ্ব অর্থনীতি
যুদ্ধের উত্তেজনায় পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে এখনো প্রায় এক হাজার বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ে আছে। মার্কিন সামরিক অভিযান 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও অঞ্চলটিতে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে শান্তি চুক্তির আভাস আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেল প্রতি ১০২ ডলারে নেমে এসেছে。 তবে ট্রাম্পের এই নতুন হুঁশিয়ারি তেলের বাজারকে আবারও অস্থির করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। তেহরান যদি মার্কিন শর্তে রাজি না হয়, তবে এই অঞ্চল আবারও একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখে পড়তে পারে।
